তীব্র গরমে শরীর যখন দ্রুত পানি ও শক্তি হারায়, তখন অনেকেই বাজারের ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন। অথচ ঘরেই থাকা এক সাধারণ উপাদান ভাতের মাড় হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর বিকল্প। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই হালকা পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখতে, ক্লান্তি কমাতে এবং সহজে হজমে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারে ভাত রান্নার পর মাড় ফেলে দেওয়ার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পানীয়। বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে এবং স্বাভাবিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে ভাতের মাড়কে প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ভাত সেদ্ধ করার সময় চাল থেকে যে স্টার্চ পানিতে মিশে যায়, সেটিই মূলত মাড়। হালকা ঘোলাটে এই তরলে থাকে কার্বোহাইড্রেট, সামান্য ভিটামিন বি এবং কিছু খনিজ উপাদান। ফলে এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। অনেক গ্রামীণ পরিবারে এখনো সকালের খাবারের অংশ হিসেবে ঠান্ডা মাড় পান করার প্রচলন রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, লবণ ও শক্তিও বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় ভাতের মাড়ে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করলে শরীর কিছুটা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। বাজারের অতিরিক্ত চিনি মেশানো কোমল পানীয়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ বিকল্প।
শুধু গরমে স্বস্তি নয়, হজমের ক্ষেত্রেও ভাতের মাড় উপকারী। যাদের পেটের সমস্যা বা দুর্বলতা রয়েছে, তাদের জন্য এটি হালকা খাবারের মতো কাজ করে। অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা রোগীদেরও অনেক সময় মাড় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি পেটে চাপ না বাড়িয়ে শক্তি জোগাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাতের মাড় সরাসরি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পান করা যেতে পারে। কেউ কেউ এতে লেবুর রস, সামান্য বিট লবণ বা ভাজা জিরার গুঁড়া মিশিয়ে স্বাদ বাড়ান। এতে পানীয়টি আরও সতেজ ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি ব্যবহার না করাই ভালো।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাড় পান করা ঠিক নয়, কারণ এতে স্টার্চের পরিমাণ বেশি থাকে। একইভাবে দীর্ঘসময় বাইরে রেখে দেওয়া মাড় পান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই রান্নার পর পরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।