২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন পুতুল। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তার দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফর ঘিরে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগের কথাও তার পদত্যাগপত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুতুল ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার পর গত জুলাইয়ে তাকে ডব্লিউএইচও থেকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্বের বাইরে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে পুতুল অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্বটি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়ের পাশাপাশি বড় অঙ্কের বাজেট ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও এ পদটি যুক্ত। ফলে পুতুলের নিয়োগের সময় থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
এদিকে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। পূর্বাচল এলাকায় প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও এসব মামলার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতুল অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কয়েকটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। চীন সফরসংক্রান্ত অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছিল। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের ক্ষেত্রেও তিনি অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেটের কথা উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডব্লিউএইচওর গুরুত্বপূর্ণ এই পদ থেকে পুতুলের সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।