টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে এক ‘সাংঘাতিক ভুল’ বা ‘ব্লান্ডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।
৫ আগস্টের পর থেকে বিদেশের মাটিতে থাকা এই অলরাউন্ডারের এমন মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে, তার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল ক্রিকেট মাঠেও। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণ দেখিয়ে জাতীয় দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘ সময় নিরব থাকার পর অবশেষে সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান।
মুম্বাইয়ে ‘ইইউটি২০ বেলজিয়াম’-এর একটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, “বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি ছিল ক্রিকেটীয় বিচারে একটি বড় বিপর্যয়। আমি মনে করি এটা অনেক বড় ক্ষতি। আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির গ্রাফে এটি একটি বড় ধাক্কা এবং আমরা একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেছি।”
জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকইনফোর বরাতে সাকিবের এই বক্তব্যটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাকিব আল হাসান কেবল একজন ক্রিকেটারই নন, তিনি সদ্য পতন হওয়া সরকারের একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে সাকিবের এই মন্তব্যকে অনেকে সরকারের প্রতি তার প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ হিসেবেও দেখছেন।
তবে সাকিব তার বক্তব্যে রাজনীতির চেয়ে ক্রিকেটীয় ক্ষতিটাকেই বড় করে দেখিয়েছেন। তার মতে, বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকাকে প্রতিনিধিত্ব না করার ফলে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা এক বিশাল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাকিবের এই মন্তব্যের পর দেশের ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকে মনে করছেন, সেই সময় দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে সাকিবের সমর্থকদের দাবি, খেলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত ছিল।