ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো সতর্কতার। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি যাচাই না করে ঝুঁকি নিতে রাজি নয়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত পর্যায়ে আটকে আছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে জানান, লেবাননের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট নিরাপদ রুট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রুটের বাইরে চলাচল করলে ঝুঁকি থাকবে।
সরকারি সূত্রে পরে জানানো হয়, কেবল নির্ধারিত লেন দিয়েই জাহাজ চলাচল করতে পারবে, আর সামরিক জাহাজের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সম্প্রতি আইআরজিসি নির্ধারিত দুইটি নিরাপদ নৌপথেরই উল্লেখ।
এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে “বিশ্বের জন্য ইতিবাচক দিন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
পটভূমিতে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সংঘাত, যার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেটির মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এর মধ্যে ইরানের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম এই ঘোষণাকে অসম্পূর্ণ বলছে, আর পার্লামেন্ট স্পিকার মোহম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন অবরোধ চললে প্রণালি বাস্তবে খোলা থাকবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে, এমনকি ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে সমঝোতার কথাও বলছে তারা। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনা, হামলার আশঙ্কা এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার হুমকির কারণে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ বলেছেন, শুধু ঘোষণা নয়, নিরাপত্তার স্পষ্ট নিশ্চয়তা দরকার। কারণ অনেক জাহাজ এখনো তাদের অবস্থান গোপন রাখছে, যা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা কঠিন করে তুলছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সমুদ্রের নিচে মাইন থাকার আশঙ্কা এবং অস্থির পরিস্থিতি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়েছে।
এমন অবস্থায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশ ও ফ্রান্স মিলে একটি বহুজাতিক মিশনের মাধ্যমে হরমুজে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করবে।