সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া নীতিমালাবহির্ভূত দুইটি উৎসাহ বোনাসের অর্থ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ২০২৩ সালের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ব্যাংকটির কর্মীরা নিয়মিত তিনটির বাইরে আরও দুটি বোনাস পেয়েছিলেন। বাড়তি ওই দুই বোনাসের অর্থ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়ে বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চেও একই অর্থ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা আদায় করা হয়নি।
সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বোনাস পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীর একটি বোনাসের পরিমাণ সাধারণত এক মাসের মূল বেতনের সমান। ব্যাংকটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি বোনাসের মোট পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে অতিরিক্ত দুই বোনাসের অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের কর্মদক্ষতার জন্য ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নীতিমালায় তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল না। ব্যাংকের নিজস্ব বোনাস নীতিতেও সর্বোচ্চ তিনটি বোনাসের বিধান ছিল।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনেও আপত্তি ওঠে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস বাবদ সোনালী ব্যাংক মোট ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জন্য আরও ৪০০ কোটি টাকা সংস্থান রাখার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
বোনাস দেওয়ার পর সোনালী ব্যাংক তা অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে আবেদন করেছিল। নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষমাও চাওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে দেওয়া পাঁচটি বোনাস অনুমোদন করেনি।
সোনালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী খান জানিয়েছেন, পাঁচটি বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগেই নেওয়া হয়েছিল। পরিশোধ করা অর্থের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আবারও অনুরোধ জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে সরকারি ব্যাংকগুলোর উৎসাহ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ঠেকাতে ২০২৫ সালে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এতে বোনাস নির্ধারণের আগে ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতাসহ পাঁচটি সূচক মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়েছে।
সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আমানত বৃদ্ধির হার, ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধির হার, শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে আদায়ের হার এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়ের হার। নির্ধারিত মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই বোনাসের সংখ্যা ঠিক হবে। সর্বোচ্চ তিনটি পর্যন্ত উৎসাহ বোনাস পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন ব্যবস্থায়।