রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার উপায় খুঁজতে সোমবার কিয়েভে বৈঠকে বসছেন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় মিত্ররা। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরেই কিয়েভ যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। কয়েকটি দেশের নেতা অনলাইনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নিরাপত্তার জন্য হাজার হাজার মানুষ মেট্রো স্টেশন, বেসমেন্ট ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বৈঠক। একই দিন রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সাড়ে চার বছরও পূর্ণ হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে থাকলেও ইউক্রেনের মিত্ররা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা করতে যাচ্ছেন।
এরই মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় এবার কিয়েভের বৈঠক থেকে ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।