হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত তারা নিয়ম লঙ্ঘনকারী ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং আরও চারটি জাহাজকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অভিযানের খতিয়ান প্রকাশ করে।
সেন্টকম তাদের বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছে, ‘১৬ মে পর্যন্ত, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশিত নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে মোট ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙার দায়ে ৪টি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইরানের বাণিজ্য পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার ইঙ্গিত দিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কেবল ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের শক্তির মহড়া। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা জাহাজ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
হোয়াইট হাউজের এই জিরো টলারেন্স নীতি মূলত ইরানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। মার্কিন নৌবাহিনী এবং সেন্টকমের এই যৌথ তৎপরতা প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন কেবল কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং সমুদ্রবক্ষে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। অবাধ্য জাহাজগুলোকে অচল করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য বলপ্রয়োগের পর ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি। তবে অতীতে এ ধরনের অবরোধের জবাবে তেহরানও মার্কিন বা পশ্চিমা মিত্রদের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করার মতো পাল্টা কৌশল নিয়েছিল। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলে এক নতুন প্রক্সি যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন।