বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নাম উঠলে সবার আগে যাদের কথা আসে, তাদের একজন মার্ক জাকারবার্গ। একটি ছোট্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প থেকে শুরু করে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন এমন এক ডিজিটাল সাম্রাজ্য, যা প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।
২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রাবস্থায় বন্ধুদের নিয়ে “দ্য ফেসবুক” নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন জাকারবার্গ। শুরুতে এটি ছিল শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। কিন্তু খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। পরে সেটিই রূপ নেয় বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটা -এর মূল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে।
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। তরুণ বয়সেই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির প্রধান হয়ে ওঠা জাকারবার্গকে অনেকে প্রযুক্তি বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে দেখেন। আবার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
২০১২ সালে ফেসবুক কিনে নেয় ইন্সটাগ্রাম, পরে যুক্ত হয় হোয়াটসঅ্যাপ। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ, ছবি, ভিডিও ও মেসেজিং, সবকিছুকে একই প্রযুক্তি ছাতার নিচে নিয়ে আসে জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান।
শুধু প্রযুক্তি ব্যবসাতেই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও এখন বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মেটা। ভার্চুয়াল দুনিয়া “মেটাভার্স” গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ২০২১ সালে কোম্পানির নাম ফেসবুক থেকে পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। জাকারবার্গ মনে করেন, ভবিষ্যতের ইন্টারনেট হবে আরও বেশি ভার্চুয়াল, ইন্টারঅ্যাকটিভ ও থ্রিডি অভিজ্ঞতাভিত্তিক।
তবে এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না। বিভিন্ন সময় মার্কিন কংগ্রেসে জবাবদিহি করতে হয়েছে তাকে। ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। তবুও প্রযুক্তি বিশ্বে তার প্রভাব কমেনি। বরং প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি, এআই এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সাধারণ পোশাক, শান্ত স্বভাব আর প্রযুক্তি নিয়ে গভীর আগ্রহ, এই তিন বৈশিষ্ট্যেই আলাদা করে চেনা যায় মার্ক জাকারবার্গকে। কেউ তাকে দেখেন উদ্ভাবক হিসেবে, কেউ বিতর্কিত করপোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে দ্বিমত নেই, ডিজিটাল যুগের ইতিহাসে তার নাম অনেকদিন ধরেই স্থায়ীভাবে লেখা হয়ে গেছে।